অর্থনীতি

সোনার দামে ভারী পতন, দাম পড়েছে ৪৬,০০০ হাজার টাকার কাছে

সোনা কেনার খুব শখ রয়েছে! ভবিষ্যতের জন্য সোনা কেনার উপযুক্ত সময় কোনটা বুঝে উঠতে পারছেন না? বিশেষজ্ঞদের মতে, এটাই হচ্ছে সোনা কেনার সুবর্ণ সুযোগ। কয়েক মাস আগে অবধি দেখা গিয়েছিল সোনার দামের (Gold Price) গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছিল। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের প্রত্যেক ১০ গ্রাম হলুদ ধাতু পার করেছিল ৫০,০০০ টাকা। তবে দাম এত উচ্চতায় উঠে যাওয়ার পরে কোন ব্যবসায়ী বা কারিগর লাভ করতে পারেননি। গয়না বাধা তবু সোনা নয় লগ্নি পণ্য হিসাবে তার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এরকম মাথা চাড়া দিয়ে উঠে ছিল সোনার দাম।

সোনার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ভীষণ চাপে পড়েছিলেন ক্রেতারা। মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ পেরিয়ে দেখা যাচ্ছে এখন আবার দেখা যাচ্ছে অন্যরকম দৃশ্য। সোনার দাম সর্বকালীন উচ্চতার তুলনায় এখন প্রায় রয়েছে ১২% এর নীচে। এর ফলে সাধারণভাবেই ক্রেতার কাছে সোনা এবং গয়নার চাহিদা বেড়েছে। ঠিক তেমনই উৎসবের মৌসুমের আগেই মজুদ ভান্ডারকে পোক্ত করার দিকে জোর দিচ্ছেন একাধিক ব্যবসায়ী। এর ফলে চাহিদার পাশাপাশি বেড়েছে সোনার আমদানি। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ক্রেতাদের কেনাকাটা আরো বেড়ে যাবে। কাল সোমবার প্রতি ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ৪৮,২৫০ টাকা।

এরইমধ্যে আজ কলকাতায় দাম কমেছে সোনার। ২৪ ক্যারাট এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম এর প্রথম লক্ষ্য করা গেছে। কলকাতায় ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে দাম কমে নতুন দাম হয়েছে ৪৮২০ টাকা। ১০ গ্রামে ৫০ টাকা কমে নতুন দাম হয়েছে ৪৮২০০ টাকা। ১০০ গ্রামে ৫০০ টাকা কমে নতুন দাম হয়েছে ৪৮২০০০ টাকা।

ওদিকে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে ৫ টাকা কমে নতুন দাম হয়েছে ৪৬৪৫ টাকা। ১০ গ্রামের নতুন দাম হয়েছে ৪৬৪৫০ টাকা। গতকাল দাম ছিল ৪৬৫০০ টাকা।

সরকারি মাধ্যম থেকে আসা তথ্য অনুযায়ী, আগের মাসে দেশে সোনার আমদানি হয়েছে প্রায় ১২১ টন। যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৬,০০০ কোটি টাকার সমান। যা গত পাঁচ মাসের নিরিখে সর্বোচ্চ। আগের বছরের এই সময়ে তা ছিল ৬৩ টন। সোনা ব্যবসায়ীরা মনে করছে, সেপ্টেম্বরেও আমদানি ৮০ টনের কাছাকাছি হয়তো পৌঁছে যাবে। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী প্রতি মানের জন্য ব্যবসা ভালো রকম ভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। গত বছরে বিয়ে বাড়ি সহ একাধিক অনুষ্ঠান স্থগিত রেখে ছিলেন অনেকেই। দীর্ঘদিন ধরে সোনার চড়া দাম ক্রেতাদের কাছে বড় পাঁচিল হয়ে দাঁড়িয়েছিল সোনা কেনার জন্য। সমস্ত পুরনো চাহিদা জমছিল একসঙ্গেই। এই সুযোগেই এইবারে উৎসবের মৌসুমের আগেই বেশ কিছুটা কেনাকাটায় পরিণত হয়েছে সেই চাহিদা। সোনার দাম কমে যাওয়ায় সোনার মজুত বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কলকাতার পাইকারি সোনা ব্যবসায়ী হর্ষদ আজমেরার বক্তব্য অনুযায়ী, ‘‘অগস্টে সোনার খুচরো ব্যবসা ভাল হয়েছে। করোনার সংক্রমণ অনেকটা কমায় মানুষ বাড়ির বাইরে বেরিয়ে কেনাকাটা করেছেন।’’

সোনার পাশাপাশি দাম কমেছে রুপোর ও। গতকালের তুলনায় আজ প্রতিকেজিতে রুপোর দাম এর প্রথম লক্ষ্য করা গেছে ৪০০ টাকা। গতকালের রুপোর দাম ছিল ৬৫৭০০ টাকা। আজ দাম হয়েছে ৬৫৩০০ টাকা।

Related Articles

Back to top button