বিনোদনভাইরাল

পরনে শর্ট স্কার্ট ও টপ, সাদামাটা পোশাক ছেড়ে গ্ল্যামারাস লুকে ‘দেশের মাটি’র ‘নোয়া’, ভাইরাল ভিডিও

বর্ষবরণের দিনে আবারো বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন অভিনেত্রী শ্রুতি দাস (Shruti Das)। টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে আসার পর থেকেই বর্ণবৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। তার গায়ের রং কিঞ্চিৎ শ্যাম বর্ণ হওয়ায় নানারকম কটাক্ষবাণ ধেয়ে এসেছে অভিনেত্রীর দিকে। পুষ্প এর গান দিয়ে ফের সেই বিতর্কতে আরো একবার আগুনে ঘি ঢালার মতো উস্কে দিলেন অভিনেত্রী। তিনিও কটাক্ষবাণ ছুঁড়েছেন সমস্ত পুরুষের দিকে, এছাড়াও যারা তাঁর গায়ের রং পোশাক-আশাক নিয়ে সারাক্ষণ তাঁকে খোটা দিতে ব্যস্ত তাঁদেরকেও ছাড়েননি অভিনেত্রী।

চলে গিয়েছে ২০২১। তবুও সেই বছরের পাওয়া কটাক্ষবাণ থেকে শুরু করে অপমান লাঞ্ছনা সমস্ত কিছুই রয়ে গিয়েছে অভিনেত্রীর স্মৃতিতে। তাই তিনি বর্ষবরণের দিনে আরও একবার সেই সব স্মৃতি মনে করে নিজেকে ভালো রাখার প্রতিজ্ঞা করলেন। গানের তালে তালে সকলের উদ্দেশ্যে বার্তা দিলেন তিনি আর কখনোই কারোর কথা কানে তুলবেন না এমনকি কাউকে পাত্তা দেবেন না। কালো বলে যদি তাকে কেউ কটাক্ষ করে তাহলে ও তাঁর কিছু আসবে যাবে না। পুষ্পা তাঁকে দীক্ষিত করেছে নতুন মন্ত্রে। নিজেকে ভালোবাসতে শিখিয়েছে অভিনেত্রীকে।

বর্তমানের দক্ষিণী সিনেমা পুষ্পা এখন মার্কেটের হটকেক। মারকেটিং দিক থেকে দেখতে গেলে হলিউড ছবি স্পাইডারম্যানকেও ঘোল খাইয়ে ছেড়েছে দক্ষিণী এই ছবিটি। ‘পরম সুন্দরী’র মতনই পুষ্পার এক গানে রিল বানানোর রীতিমতো হিড়িক পড়ে গিয়েছে। সবার আগে সেই সুযোগই কাজে লাগিয়েছেন অভিনেত্রী শ্রুতি দাস। গানের তালে তালে কখনো নিজের চুল সরিয়ে দেখিয়েছেন বক্ষদেশ! কখনো আবার ক্যামেরার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন সাহসী ভঙ্গিতে।

তবে পুষ্পা সিনেমার কণিকা কাপুরের গাওয়া ‘ও বলেগা ইয়া হু বলেগা শালা’ এই গানের সারমর্ম কি! ছোট করে বলা যেতে পারে, যদি কখনো কোনো নারী শাড়ি কিনবা ছোট পাশ্চাত্য পোশাক পরে সবেতেই সমস্যা পুরুষদের। তাঁর গায়ে কাদা ছেটাতে বেশিক্ষণ নেয় না পুরুষেরা। এখনো অবধি পুরুষেরা ফর্সা রং এর প্রতি দুর্বল। গায়ের রং চাপা হলেই মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা রয়ে গিয়েছে আজও। এই যদি পুরুষ চরিত্রের নমুনা হয়, তাহলে তা নিয়ে কেন নারীরা বেশি মাথা ঘামায়! বদলে নিজেকেই তো বেশি করে ভালবাসতে পারে।

জন্মের পর থেকে ক্রমাগত দুটি কারণে অভিনেত্রী শ্রুতি দাসকে প্রতিমুহূর্তে লাঞ্ছিত অপমানিত হতে হয়েছে। গ্লামার ইন্ডাস্ট্রিতে যুক্ত হওয়ার পর থেকে সেই অপমানের প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে আরও। অভিনেত্রীকে অপদস্ত করতে করতে এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছে যে তাঁকে যৌনকর্মী বলতে পিছপা হয়নি কটাক্ষকারিরা । অভিনেত্রী প্রতিবাদও করেছেন এর বিরুদ্ধে। তারপর থেকে যেন তাঁকে নিয়ে বিতর্ক আরও কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। পরিচালক স্বর্ণেন্দু সমাদ্দারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আসতেই অভিনেত্রীকে শুনতে হয়েছে, ‘নিজের ভবিষ্যৎ গোছাতে বাবার বয়সী লোককে ফাঁসিয়েছে!’

Related Articles

Back to top button