বিনোদন

মাতৃহারা ‘খড়কুটো’ সিরিয়ালের পুটু পিসি, মাকে হারিয়ে শোকে কাতর অভিনেত্রী

সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ঘরে বাইরে ছবিতে স্বাতীলেখা সেনগুপ্তের বিমলার চরিত্রে অভিনয় সবার মনে আজও লেগে আছে। সেই ছিল তাঁর চলচ্চিত্র জগতে প্রথম পা রাখা। নাটকের মঞ্চে পাঞ্চজন্য, বিপন্নতা, নাচনী, অযত্নবাস, পাতা ঝরে যায়-এর মতন বহু নাটকে তাঁর অভিনয় সকলের নজর কেড়েছে। নাটক থেকে ছবি সব জায়গাতেই তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। তাঁর শেষ ছবি ‘বেলাশুরু’ মুক্তির আগেই এই পৃথিবী ছেড়ে চিরতরে বিদায় নিলেন তিনি।

তিনি চলে যাওয়ার পর তাঁর মেয়ে সোহিনী সেনগুপ্ত কান্নার সময়টাও পাননি তিনি। সব কাজ শেষ করে তিনি মায়ের অস্থি প্রিন্সেপ ঘাটে ভাসিয়ে যখন ফিরলেন তিনি তখন শহর জুড়ে বৃষ্টি নেমেছে। বরাবরই বৃষ্টি পছন্দ করতেন স্বাতীলেখা। তাই তাঁর অন্তিম যাত্রায় বৃষ্টি কখনোই বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়নি। সব কাজ মেটার পরেই নেমেছে অকাল বর্ষণ। সোহিনী বলেন “মা বৃষ্টি ভালোবাসতেন, তাই কাল সারারাত জেগে বৃষ্টি দেখেছি। শহরকে ভাসতে দেখেছি, মা খুব কষ্ট পাচ্ছিলেন, সমস্ত যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেলেন তিনি’।

এরপর সোহিনী বলেন ‘আমার বাড়িময় এখন মায়ের গন্ধ, মায়ের শাড়ি, সেই গন্ধেই মাকে পাচ্ছি। আমার অনেকটা জুড়ে মা আছেন, আমার গলার স্বর, আমার অভিব্যক্তি, আমার মুখে মায়ের ছাপ আছে। মা সেইভাবে আমার কাছে থাকবে।’ বিগত ২৫ দিন ধরে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন অভিনেত্রী। এর আগেও দীর্ঘ চার বছর ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। একবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। যদিও নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা কাউকে বুঝতে দেননি তিনি। ৭১ বছর বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

বহুবছর তিনি চলচ্চিত্র জগত থেকে দূরে সরে থাকলেও আবার শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়ের হাত ধরে তিনি আবার পর্দায় ফেরেন। শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে লেখেন ‘ভ্রমণের শেষে ফিরে এসো ঠিক, আগের মতো, কেউ বসে আছে তোমার অপেক্ষায়…’। বেলাশেষে ছবিতে তাঁর মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অপরাজিতা আঢ্য তিনি লেখেন ‘ওগো মা তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফেরে’। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত থেকে সুদীপ্তা চক্রবর্তী সবাই স্মৃতিচারণ করেছেন টলিউডের আরেক অভিভাবক স্বাতীলেখার উদ্দেশ্যে।

Related Articles

Back to top button