বিনোদন

পাঁচ কোটি টাকা ‌জেতার পরেও ফেরেনি ভাগ্য! জানালেন কেবিসি বিজেতা সুশীল

অমিতাভ বচ্চন (Amitabh Bachchan) সঞ্চালিত কন বানেগা ক্রোড়পতি (Kaun Banega crorepati) টেলিভিশন এর সবচেয়ে বড় কুইজ শো। এই রিয়েলিটি শোয়ের হাত ধরে পাল্টে গেছেন একাধিক মানুষের জীবন। এই রিয়েলিটি শোয়ের হাত ধরে উঠে এসেছে অনেক জ্ঞানী গুণী মানুষের জীবনের কাহিনী। তাদের মধ্যে অন্যতম নাম হল সুশীল কুমার (Sushil Kumar)। যিনি বিহারের মতিহারি জেলার এক মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তবে এই রিয়্যালিটি শো-এ এসে তিনি জিতেছিলেন ৫ কোটি টাকা। রাতারাতি পাল্টে গিয়েছিল তার জীবন। তিনি এত টাকা নিয়ে কি করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না।

পাঁচ কোটি টাকা ‌জেতার পরেও ফেরেনি ভাগ্য! জানালেন কেবিসি বিজেতা সুশীল

সুশীলের দাবি এই পাঁচ কোটি টাকা জেতার পর থেকেই তার জীবনের দুঃসময়ে শুরু হয়। সম্প্রতি নেট মাধ্যমে সুশীল কুমার তুলে ধরেছেন সেই সময়ে পেরিয়ে আসা তার অন্ধকারময় সময়ের কথা। কন বানেগা ক্রোরপতি সিজন ৫ এর বিজেতা সুশীল কুমার জানিয়েছেন, “২০১৫-১৬ সাল আমার জীবনে সবচেয়ে খারাপ সময় ছিল। সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং মুহূর্ত ছিল। খ্যাতনামা হওয়ার দরুন মাসে ১০-১৫ দিন নানা রকম অনুষ্ঠান করেই কেটে যেত আমার। এই অবধি আমার জীবনে সব ঠিকঠাকই ছিল।” তবে এরপর সুশীলের ইচ্ছা ছিল ব্যবসা করার। হাতে অনেক টাকা থাকায় একের পর এক ব্যবসায় টাকা ঢালতে শুরু করেন তিনি। তবে ভাগ্যের পরিহাসে সবকটি ব্যবসাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

পাঁচ কোটি টাকা ‌জেতার পরেও ফেরেনি ভাগ্য! জানালেন কেবিসি বিজেতা সুশীল

ব্যবসার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি আরো বলেছেন, ‘যেহেতু একজন স্থানীয় ব্যক্তিত্ব ছিলাম, তাই সেইসময় সংবাদমাধ্যমকে খুবই গুরুত্ব দিতাম। অনেক সময় সাংবাদিকরা আমার বিষয়ে লিখতেন এবং সাক্ষাৎকার নিতেন। কিন্ত আমরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলার কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না। তবুও তাঁদের নিজের ব্যবসা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বলতাম। যাতে মানুষের এটা না মনে হয় যে আমি কর্মহীন। কয়েকদিনের মধ্যেই আমার ব্যবসা নষ্ট হয়ে যায়।’ 

পাঁচ কোটি টাকা ‌জেতার পরেও ফেরেনি ভাগ্য! জানালেন কেবিসি বিজেতা সুশীল

এখানেই শেষ নয় তিনি সমাজসেবামূলক কাজে প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা করে খরচ করা শুরু করেন। এই সুযোগ নিয়ে অনেকে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ও করেন। এই ভাবেই ক্রমে তার টাকার পরিমাণ কমতে শুরু করে। সবদিকে বেশি টাকা খরচ করা নিয়ে তার স্ত্রীর সাথে বাধে তুমুল অশান্তি। এক সময় তা চরমে পৌঁছায়। সুশীল এই প্রসঙ্গে বলে, ‘‘টাকার নেশায় এমন বুঁদ হয়ে গিয়েছিলাম কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল সব গুলিয়ে গিয়েছিল।’’ এরপর দিল্লিতে গিয়ে সুশীলকুমার শুরু করেন গাড়ির ব্যবসা। ভাগ্যের পরিহাসে সেটাও ডুবে যায়। ক্রমে সিগারেট মদ এবং নানারকম মাদকের নেশায় আসক্ত হতে শুরু করেন তিনি।

স্ত্রীর সাথে ঝামেলার পর মুম্বাইয়ে নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করতে পারি দিয়েছিলেন তিনি। বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ছবি পরিচালনার কাজ করতে শুরু করেন। তবে এই বিষয়ে তার খুব একটা জ্ঞান না থাকায় এক প্রযোজক তাকে টিভি সিরিয়াল নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। জনপ্রিয় এক টিভি সিরিয়ালের প্রযোজনা শুরু করেছিলেন তিনি তবে সেটিও বেশিদিন টেকেনি। শেষমেষ সব ছেড়ে নিজের শহরে ফিরে আসেনি সুশীল এবং ভাবেন, ‘‘ছবি পরিচালনা করা আমার কাজ নয়, এটা বুঝে শহরে ফিরে আসি।’’ মুম্বাইয়ে এক বন্ধুর হাত ধরে তিনি তিনটে স্ক্রিপ্ট লিখেছিলেন সেই তিনটি তার স্ক্রিপ্ট জনপ্রিয় এক প্রযোজকের হাতে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন।

Related Articles

Back to top button